
ফুটবলপ্রেমী কলকাতার জন্য ১৩ ডিসেম্বর হয়ে উঠল হতাশা আর ক্ষোভের দিন। বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, তা নিয়ে কড়া ভাষায় রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর মতে, এই ঘটনা শুধু আয়োজকদের নয়, রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশেরও চরম ব্যর্থতার ফল।
রাজ্যপাল বলেন, অনুষ্ঠানের আগে যথাযথ পরিকল্পনা, ভিড় নিয়ন্ত্রণের রূপরেখা এবং আগাম প্রস্তুতির ঘাটতির কারণেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও, তাঁর অধীনে থাকা পুলিশ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন।
ঘটনাকে কলকাতার ফুটবল সংস্কৃতির জন্য ‘একটি অন্ধকার দিন’ বলে আখ্যা দেন রাজ্যপাল। তাঁর অভিযোগ, কিছু বেসরকারি আয়োজক ও স্পনসর মেসির নাম ব্যবহার করে মানুষের আবেগকে পুঁজি করে মুনাফা লুটতে চেয়েছে। হাজার হাজার দর্শক টিকিট কেটেও প্রিয় তারকাকে দেখতে পারেননি, অথচ হাতে গোনা কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন।
এই ঘটনায় রাজ্য সরকারকে একাধিক কড়া নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল। এর মধ্যে রয়েছে অনুষ্ঠানের আয়োজক ও স্পনসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, টিকিট কেটে বঞ্চিত দর্শকদের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত, স্টেডিয়াম ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায় এবং গোটা ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা করা পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ভবিষ্যতে বড় জমায়েতের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক এসওপি, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন এবং দর্শকদের বিমা চালুর প্রস্তাব দেন রাজ্যপাল। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, সাধারণ মানুষের আবেগ ও সম্মানের সঙ্গে এমন আচরণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
