
কলকাতা থেকে মুম্বই লিওনেল মেসির ভারত সফর মানেই উন্মাদনা, ভিড় আর আবেগের ঢেউ। কিন্তু এই সফরে মেসির পাশাপাশি যাঁকে ঘিরে আলাদা করে নজর কাড়ল ক্যামেরা, তিনি রদ্রিগো ডি পল। কখনও স্যান্ডো গেঞ্জি, কখনও হোয়াইট ট্যাঙ্ক টপ মেসির এক পা দূরত্বে যেন ছায়ার মতো ঘুরে বেড়ালেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। মাঠে যেমন, মাঠের বাইরেও তেমনই মেসির সঙ্গে ডি পলের সম্পর্ক যে শুধুই সতীর্থের নয়, তা ভারত সফরেই আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।
ফুটবল দুনিয়ায় মেসির সঙ্গে বহু তারকার জুটি তৈরি হয়েছে। কেউ এসেছেন, কেউ সময়ের সঙ্গে সরে গিয়েছেন। কিন্তু ডি পল আলাদা। ২০১৮ সাল থেকে আর্জেন্টিনা দলে মেসির পাশে থাকা এই ফুটবলার নিজেই স্বীকার করেছেন, মেসির সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁর জীবন বদলে গেছে। শুধু খেলার ধরন নয়, বদলেছে মানসিকতাও। মেসির নীরবতা, শৃঙ্খলা আর কাজের প্রতি নিষ্ঠাই নাকি তাঁকে নতুন মানুষ করে তুলেছে।
ডি পলের কথায়, মেসির সঙ্গে অনেক সময় কথার প্রয়োজনই হয় না। মাঠে একবার চোখাচোখি হলেই বুঝে যান কোথায় কী পরিবর্তন দরকার। এই ‘টেলিপ্যাথিক’ বোঝাপড়াই আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা আর কাতার বিশ্বকাপের সাফল্য। সেই সম্পর্ক এতটাই গভীর যে স্পেনের ক্লাব ছেড়ে আটলান্টিক পেরিয়ে মেসির সঙ্গেই ক্লাব ফুটবল খেলতে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়েছেন ডি পল।
মেসির ‘বডিগার্ড’ বলেও তাঁকে মজা করে ডাকেন অনেকে। কারণ মাঠে বা মাঠের বাইরে, মেসির দিকে কেউ কটাক্ষ করলে প্রথম প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান ডি পল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, নির্জন দ্বীপে এক জন সতীর্থকে নিতে হলে তাঁর পছন্দ মেসিই “ওর মৃত্যু পর্যন্ত ওর সঙ্গেই থাকব।” এই মন্তব্যই তাঁদের বন্ধুত্বের গভীরতা বোঝাতে যথেষ্ট।
বন্ধুত্ব শুধু ফুটবলে আটকে নেই। পরিবার, ছুটি কাটানো, ডিনার সবেতেই দু’জনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। ডি পল মজা করে বলেন, ফ্যাশনের কিছু টিপস নাকি তিনি মেসিকেই দিয়েছেন। আবার রোনাল্ডো-মেসি তুলনায় তাঁর সাফ কথা “রোনাল্ডো অসাধারণ, কিন্তু ১০ নম্বর মানে শিল্প। মেসি শিল্পী।”
ভারত সফরে মেসিকে ঘিরে যত আলো, ক্যামেরা আর উন্মাদনা তার মধ্যেই নীরবে নজর কাড়লেন ডি পল। কারণ এই সফর আরও একবার প্রমাণ করে দিল, লিওনেল মেসির পাশে তিনি শুধু সতীর্থ নন, আজকের ফুটবলে বিরল এক বন্ধুত্বের প্রতীক।
