
গোয়া থেকে দিল্লিগামী ইন্ডিগোর এক বিমানে শনিবার দুপুরে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উড়ানের মাত্র ১০ মিনিট পর হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন ৩৪ বছরের এক মার্কিন মহিলা যাত্রী। মাঝ-আকাশে জ্ঞান হারান ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা জেনি। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিমানটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দিল্লিতে অবতরণ করানো হয়। সহযাত্রী হিসেবে থাকা এক চিকিৎসকের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচে ওই মহিলার।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ গোয়া থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয় বিমানটি। কিছুক্ষণের মধ্যেই জেনি কাঁপতে শুরু করেন এবং অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁর পাশে ছিলেন বোন। ঘটনাটি নজরে আসে বিমানে থাকা চিকিৎসক নিম্বালকর-এর। তিনি কর্নাটকের বেলগাভি জেলার খানাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক।
জেনির কাছে পৌঁছে দেখেন তাঁর শরীর ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে, সাড়া দিচ্ছেন না। সঙ্গে সঙ্গেই প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন নিম্বালকর। জেনির বোনের কাছ থেকে জানা যায়, আগের দিন তাঁর পেটে সংক্রমণ হয়েছিল। সাময়িকভাবে সুস্থ বোধ করলেও উড়ানের সময় ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ককপিট থেকে দিল্লি বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দ্রুত অবতরণের অনুমতি মেলে। দিল্লিতে নামার পরেই জেনিকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও চিকিৎসকের উপস্থিতি ও দ্রুত সিদ্ধান্তের জন্য বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। মাঝ-আকাশে এক মানবিক উদ্যোগ ফের মনে করিয়ে দিল বিপদের সময়ে তৎপরতা আর মানবিকতাই সবচেয়ে বড় ভরসা।
