
নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে ভারত আবারও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এনআইএ সোমবার চার্জশিট দাখিল করেছে, যেখানে পাকিস্তানি জঙ্গি সাজিদ সইফুল্লাকে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় দূত হরিশ পর্বতনেনি পরিষদে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পাকিস্তানের মন্তব্য অযাচিত ও প্রাসঙ্গিক নয়।
রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে ভারত অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসে প্রায়শই জড়িত এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের উস্কানি দিচ্ছে। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকেও এ বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। পর্বতনেনি বলেন, “ভারত ৬৫ বছর আগে সিন্ধু জলচুক্তিতে সম্মত হয়েছিল, কিন্তু পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং আমাদের ক্ষতি করার জন্য সন্ত্রাসে সহযোগিতা করেছে।”
এছাড়াও, চার্জশিটে জানানো হয়েছে, সাজিদ সইফুল্লা পাক জঙ্গি সংগঠন লশকর-এ-ত্যায়বার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-এর প্রধান। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সঠিক বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। একদিকে ভারতের আইনশৃঙ্খলা সংস্থা তদন্ত চালাচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক স্তরে পাকিস্তানের প্রতি ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এটি শুধু কূটনৈতিক দিক থেকে নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ।
পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য এই পদক্ষেপকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের বার্তা পরিষ্কার: সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদে পাকিস্তান আর চোখ বন্ধ রাখতে পারবে না।
