
নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরুতেই কড়া নির্দেশনা জারি করল নির্বাচন কমিশন। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি ও অভিযোগ জানানোর এক মাসের সময়সীমা শুরু হয়েছে। কারও নাম বাদ পড়লে বা তথ্য-তথ্যভ্রান্তি থাকলে, সব অভিযোগ এই সময়ের মধ্যে জানানো যাবে।
বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) জন্য এবার ছুটি নেই। শনি-রবিবারও তাদের বুথে বসা বাধ্যতামূলক। কমিশনের ব্যাখ্যা, বহু ভোটার সপ্তাহান্তে বেসরকারি কাজে যুক্ত থাকেন, তাই তাদের অভিযোগ জানার সুযোগ নিশ্চিত করতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বিএলওদের ঠিক কোন সময় থেকে কতটা সময় বুথে থাকতে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অভিযোগ পর্যালোচনা প্রক্রিয়া ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে। প্রয়োজনে ভোটারদের শুনানিতেও ডাকা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে।
ভোটাররা ceowestbengal.wb.gov.in, voters.eci.gov.in ও ECINET অ্যাপের মাধ্যমে খসড়া তালিকায় নিজেদের নাম আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে পারবেন। এছাড়াও, বুথে কতজন অনুপস্থিত, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটার রয়েছেন, তার বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যাবে।
আগেই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল, প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। খসড়া প্রকাশের পর সেই আশঙ্কা সত্যি হয়েছে। সূত্রের খবর, শুনানিতে প্রায় ২ কোটি মানুষকে ডাকা হতে পারে। বিপুল সংখ্যক ভোটারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির গুরুদায়িত্বও বিএলওদেরই সামলাতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ নিশ্চিত করবে, কোনো ভোটারই আপত্তি জানানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না। এই একমাসের তৎপরতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং ভোটারের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
