
৩৭ বছরে এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সফরে জর্ডানে এলেন। সেই ঐতিহাসিক সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ দমন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাই উঠে এল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে। বৈঠক শেষে ভারত ও জর্ডানের মধ্যে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তিতে সই হয়, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
সোমবার আম্মানের হুসেইনিয়া প্রাসাদে প্রথমে দুই নেতার একান্ত আলোচনা হয়, পরে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা দমন, কৃষি, সার, পর্যটন এবং প্রযুক্তি সহযোগিতার মতো একাধিক বিষয় উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করেন, সন্ত্রাসবাদ শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়, এটি গোটা বিশ্বের জন্যই হুমকি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত ও জর্ডান একসঙ্গে কাজ করবে।
এই সফরে যে পাঁচটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তিতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভারতের এলোরার সঙ্গে জর্ডানের পেট্রার ‘টুইনিং’ চুক্তি, ২০২৫-২০২৯ সালের সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি এবং বৃহৎ জনসংখ্যার জন্য ডিজিটাল সমাধান ভাগাভাগির উদ্যোগ। এই চুক্তিগুলি দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও মজবুত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ভারত জর্ডানের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগামী পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, গাজা পরিস্থিতিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জর্ডানের সক্রিয় ভূমিকারও প্রশংসা করেন মোদী।
সব মিলিয়ে, ভারত-জর্ডান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছরে দাঁড়িয়ে এই সফর পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করবে বলেই মত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের।
