
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বড় বদল আনল নির্বাচন কমিশন। খসড়া ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁদের এবার নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হলে আগের তুলনায় আরও বেশি নথি ও তথ্য দিতে হবে। শুধু ফর্ম ৬ পূরণ করলেই চলবে না, তার সঙ্গে এনুমারেশন ফর্মের আদলে তৈরি একটি অতিরিক্ত ফর্মও জমা দিতে হবে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন করে নাম তুলতে চাওয়া ভোটারকে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যোগসূত্র প্রমাণ করতে হবে। যদি আবেদনকারীর নিজের নাম ২০০২ সালের তালিকায় থাকে, তবে সেই তথ্য দিতে হবে। আর যদি না থাকে, তাহলে বাবা, মা, ঠাকুরদা বা ঠাকুরমার মধ্যে অন্তত একজনের ২০০২ সালের ভোটার তালিকার তথ্য উল্লেখ করতে হবে। এই নিয়ম আগেও ছিল, তবে এবার তা আরও কঠোর ভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।
আগে জন্মতারিখের প্রমাণ ও অভিভাবকের ভোটার কার্ডের তথ্য দিলেই আবেদন গ্রহণ করা হত। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ায় সেই নিয়ম বদলেছে। নতুন ফর্মে আবেদনকারীর বিস্তারিত তথ্যের পাশাপাশি ২০০২ সালের ভোটার তালিকার রেফারেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই নতুন ফর্মে আধার নম্বর দেওয়ার কোনও জায়গা রাখা হয়নি।
রাজ্যে গত ২৭ অক্টোবর এসআইআর-এর দিনক্ষণ ঘোষণা হয়। সেই সময় রাজ্যে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষের বেশি। কমিশনের প্রাথমিক খসড়া তালিকায় রয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ভোটারের নাম। বাদ পড়েছে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম, যার মধ্যে রয়েছেন মৃত, স্থানান্তরিত, নিখোঁজ ও ভুয়ো ভোটাররা। পাশাপাশি যাঁরা এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেননি, তাঁরাও বাদ পড়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের দাবি, যাঁরা এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন এমনকি শুধু সই করলেও তাঁদের নাম খসড়া তালিকায় রয়েছে। তবে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফর্ম ৬ জমা দিয়ে ফের আবেদন করতে পারবেন। অন্য রাজ্য থেকে এসে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হতে চাইলে ফর্ম ৮ পূরণ করতে হবে।
কমিশনের বার্তা স্পষ্ট ভোটার তালিকায় নাম রাখতে হলে এবার তথ্যের প্রমাণেই শেষ কথা।
