
এআই ও আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির মাঝেও মানুষের রুজি-রোজগার রক্ষা রাজ্য সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এই স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কনফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রযুক্তি প্রয়োজনীয় হলেও ‘হিউম্যান টাচ’ ছাড়া উন্নয়ন অসম্পূর্ণ।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এআই অপারেশন চললেও তার ফলে যেন কর্মসংস্থান না কমে, সে বিষয়ে রাজ্য সতর্ক থাকবে। “পেটের ক্ষুধা বড় ক্ষুধা” এই মন্তব্যে তিনি বোঝান, প্রযুক্তির নামে মানুষের জীবিকা বিপন্ন হতে দেওয়া হবে না। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, রাজ্যের অর্থনীতি আরও চাঙ্গা করতে কলকাতা ও শিলিগুড়িতে ট্রেড ও এক্সপোর্ট সেক্টরের জন্য আলাদা বিজনেস হাব গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ব্যবসায়িক সমস্যার দ্রুত সমাধানে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে একটি ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বোর্ডে রাজ্যের সব জেলার ব্যবসায়িক সংগঠন যুক্ত থাকবে। এ দিন ব্যবসায়ীদের স্বার্থে একটি নতুন পোর্টালও চালু করা হয়, যেখানে কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপডেট করলে দ্রুত বিল মেটানোর ব্যবস্থা থাকবে। অভিযোগ জানালেও দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পশ্চিমবঙ্গ এখন ‘ইন্ডিয়ার কমার্শিয়াল গেটওয়ে’। রাজ্যে ছ’টি ইকোনমিক করিডর তৈরি হচ্ছে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে। তাঁর দাবি, রাজ্যের এমএসএমই সেক্টরে প্রায় ৯৩ লক্ষ ইউনিটে কাজ করেন ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ, সঙ্গে যুক্ত আরও ১৫ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বকেয়া প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা না দেওয়ার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নানা বঞ্চনার মধ্যেও রাজ্যে বেকারত্ব ৪০ শতাংশ কমেছে এ তথ্য নীতি আয়োগের রিপোর্টেও রয়েছে। বনধ সংস্কৃতি বন্ধ হওয়ায় কর্মদিবস নষ্ট হওয়ার প্রবণতাও কমেছে বলে তিনি দাবি করেন।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি ও মানবিকতার সমন্বয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থান রক্ষার দিকেই যে রাজ্যের নজর, তা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
