
শীত এ বছর কোনও ঘোষণা ছাড়াই শহরে ঢুকে পড়েছে। কুয়াশা এসেছে, রাত ঠান্ডা হয়েছে, ফুটপাথে চাদরের দোকান বেড়েছে। কিন্তু পার্ক সার্কাসের মাঠটা যেন সেই খবরটাই পায়নি। বছরের এই সময়ে যেখানে আলো জ্বলার কথা, সেখানে অদ্ভুত এক নীরবতা। কিছু না ঘটার শব্দে ভরে আছে চারপাশ।
অনেকদিন ধরেই শীত মানে এখানে একটা বাড়তি জমজমাট ভাব। বিকেলের ভিড় একটু অন্যরকম হয়ে যেত, সন্ধ্যা নামলেই কোলাহল। কেউ কেউ দম আটকে তাকিয়ে থাকত, কেউ হাততালি দিত, কেউ শুধু অবাক হয়ে দেখত এমন কিছু মুহূর্ত, যাদের আলাদা করে নাম দেওয়া যেত না। এ বছর সেই মুহূর্তগুলোই অনুপস্থিত।
কেউ বলছে না যে কিছু হারিয়ে গেছে। তবু মনে হচ্ছে, কোথাও যেন কিছু পৌঁছয়নি। অনুমতির কাগজ, প্রস্তুতির তালিকা, সময়ের হিসেব, সব মিলিয়ে গল্পটা আর এগোয়নি। আলো জ্বালানোর আগেই সুইচ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মাঠটা দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু অপেক্ষা করছে না।
সন্ধ্যায় পথচলতি মানুষেরা একটু থামে, একটু তাকায়। যেন অভ্যেসের ভুলে চোখ খুঁজে নেয় কিছু একটা। তারপর আবার হেঁটে যায়। শীতের বাতাসে ভেসে বেড়ায় এমন এক অনুভূতি, যাকে ঠিক অভাবও বলা যায় না, আবার উপস্থিতিও নয়।
পার্ক সার্কাস এ বছর বুঝিয়ে দিল, সব শীত দৃশ্যমান হয় না। কিছু শীত আসে নিঃশব্দে, কিছু উৎসব না-হওয়ার মধ্যেই নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়। এই শীতে তেমনই এক গল্প লিখে রাখল শহর, শব্দ কম, ইঙ্গিত বেশি।
