
যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসি আগমন ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার ঘটনায় দ্রুত এগোল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির পাঠানো শোকজ নোটিসের জবাব নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জমা দিলেন রাজ্যের তিন শীর্ষ কর্তা। রাজ্য পুলিশের ডিজিপি রাজীব কুমার, ক্রীড়া দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ কুমার সিনহা এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনার মুকেশ কুমার তিনজনই তাঁদের লিখিত বক্তব্য তদন্ত কমিটির হাতে তুলে দিয়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
গত শনিবার যুবভারতীতে ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিপুল ভিড় জমে। বহু দর্শক মোটা অঙ্কের টিকিট কেটে মাঠে প্রবেশ করলেও প্রত্যাশিতভাবে মেসিকে কাছ থেকে দেখতে না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, মাঠে নামার সময় প্রায় ৬০-৭০ জন ঘিরে ধরেন মেসিকে। এর জেরে উত্তেজনা ছড়ায় গ্যালারিতে, তৈরি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। নিরাপত্তার কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মেসি। এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে রাজ্য প্রশাসন ও আয়োজক সংস্থা।
ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের নির্দেশ দেন এবং একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিকভাবে সাংবাদিক বৈঠক করে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছিলেন ডিজিপি রাজীব কুমার। তবে পরে তদন্ত কমিটি তাঁর সহ আরও দুই আধিকারিককে শোকজ করে। সূত্রের খবর, ক্রীড়া দফতরের প্রধান সচিব তাঁর জবাবে জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি যে ধাপে ধাপে হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা মানা হয়নি। আয়োজক সংস্থাই নিজেদের মতো করে পরিকল্পনা বদল করেছিল। যদিও ডিজিপি রাজীব কুমার ও বিধাননগর পুলিশের সিপি মুকেশ কুমারের লিখিত বক্তব্যের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
তদন্ত কমিটি এই জবাব খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে। যুবভারতী কাণ্ডে দায় কার, গাফিলতি কোথায় সেই প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে।
