
লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে বুধবার সন্ধ্যায় ক্রিকেট নয়, ইতিহাস গড়ল কুয়াশা আর ভয়াবহ দূষণ। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি শুরুই করা গেল না। সন্ধ্যা নামতেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় গোটা মাঠ, সঙ্গে ছিল বিপজ্জনক মাত্রার বায়ুদূষণ। ফলত, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই প্রথম কুয়াশার কারণে একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার নজির তৈরি হল।
ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিল সন্ধে সাতটায়। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই আম্পায়াররা জানিয়ে দেন, মাঠের দৃশ্যমানতা ম্যাচ চালানোর মতো নেই। কুয়াশা এতটাই ঘন ছিল যে পিচ থেকে বাউন্ডারি সবই ধোঁয়াশার আড়ালে। ৭টা ৩০, ৮টা, ৮টা ৩০, এমনকি রাত ৯টা ও ৯টা ২৫ একাধিকবার মাঠ পরিদর্শন করেন আম্পায়াররা। প্রত্যেকবারই একই সিদ্ধান্ত খেলা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
কুয়াশার পাশাপাশি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় লখনউয়ের ভয়াবহ বায়ুদূষণ। এদিন শহরের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৪০০ ছুঁয়ে ফেলে, যা ‘হ্যাজার্ডাস’ বা অত্যন্ত বিপজ্জনক স্তরের মধ্যে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ড্যকে মাস্ক পরে অনুশীলন করতে দেখা যায়। দুই দলই দূষণ ও কুয়াশার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুশীলন গুটিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যায়।
এই ম্যাচ বাতিল হওয়ায় পাঁচ ম্যাচের সিরিজের সমীকরণ বদলায়নি। ধর্মশালায় তৃতীয় ম্যাচ জিতে ভারত আগেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। লখনউয়ের ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় সেই ব্যবধানই বজায় থাকল। সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে ১৯ ডিসেম্বর, আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে।
সব মিলিয়ে, লখনউয়ের এই রাত ক্রিকেটপ্রেমীদের উপহার দিল এক অস্বস্তিকর বার্তা যেখানে ব্যাট আর বলের লড়াইয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠল পরিবেশের সংকট।
