
ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে এক ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষরিত হলো, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোনে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের সঙ্গে কথা বলে এই যুগান্তকারী চুক্তির ঘোষণা করেন। দুই নেতা একমত হন যে, এই FTA বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।
২০২৫ সালের মার্চে প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের ভারত সফরের সময় এই চুক্তির আলোচনা শুরু হয়েছিল। মাত্র নয় মাসের রেকর্ড সময়ে চুক্তি সম্পন্ন হওয়াকে দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দক্ষতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার এবং আগামী ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চুক্তির অন্যতম বড় দিক হলো পরিষেবা ও গতিশীলতা। নিউজিল্যান্ড ১১৮টি পরিষেবা খাতে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেবে এবং ভারতীয় ছাত্রদের জন্য স্টুডেন্ট মোবিলিটি ও পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার সুবিধা প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। STEM বিষয়ে পড়াশোনা করা ভারতীয় ছাত্ররা পড়াশোনা শেষে তিন থেকে চার বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, বছরে ৫,০০০ দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবীর জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ভারতও পাল্টা হিসেবে নিউজিল্যান্ডকে ১০৬টি পরিষেবা খাতে বাজারে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। পণ্য বাণিজ্যে ধাপে ধাপে শুল্ক হ্রাস পাবে, যদিও দুগ্ধ ও কয়েকটি সংবেদনশীল খাতকে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে MSME, কৃষক, উদ্যোক্তা ও যুবকদের ওপর।
ভারত-নিউজিল্যান্ড FTA শুধু বাণিজ্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
