
ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন আরাবল্লী পর্বত, যা হিমালয়ের থেকেও ৩২০ কোটি বছর পুরনো, আজ ধ্বংসের মুখে। ৭৫০ কিলোমিটার বিস্তৃত এই পর্বতশৃঙ্গ উত্তর ভারতের প্রাকৃতিক লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম হিসেবে কাজ করছে। এটি বর্ষার জলীয় বাষ্প ধরে রাখে, থর মরুভূমিকে পূর্বদিকে এগোতে বাধা দেয় এবং দিল্লি-এনসিএরের বায়ুদূষণ কমাতে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও ভূগর্ভস্থ জল সঞ্চয় করে, যা অতীতে গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ ও আলওয়ারে জলসংকট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
কিন্তু সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের আরাবল্লীর সংজ্ঞা বদলের ফলে এই প্রাচীন পাহাড়ের ৯৩ শতাংশই সংরক্ষিত হিসেবে থাকছে না। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০ মিটারের নিচে শৃঙ্গগুলো পাহাড় হিসেবে গণ্য হবে না। ফলে বেআইনি খনন ও পরিবেশ ধ্বংসের আশঙ্কা বেড়েছে। ২০১৮ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজস্থানের আরাবল্লীর ২৫ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
পরিবেশবিদ ও আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, আরাবল্লীকে ‘বাস্তুসংকটপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করা হোক এবং পাথর খনন সম্পূর্ণ বন্ধ করা হোক। তারা সতর্ক করছেন, না হলে উত্তর ভারতের বৃষ্টিপাতের প্যাটার্ন পরিবর্তিত হবে, নদী শুকিয়ে যাবে এবং বর্ষা পর্যাপ্ত জল সরবরাহ করতে পারবে না।
কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বলেছেন, নতুন সংজ্ঞার মাধ্যমে আরাবল্লী আরও সুরক্ষিত হয়েছে এবং খননের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের ফলে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবেশবিদরা মনে করছেন, উন্নয়নের নামে প্রকৃতির এমন ধ্বংস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
আরাবল্লী পাহাড় রক্ষা করা মানে শুধু পরিবেশ নয়, উত্তর ভারতের জলবায়ু, জল সরবরাহ এবং জীবনধারার নিরাপত্তা রক্ষা করা। প্রকৃতি বিনষ্ট করে উন্নয়ন সম্ভব নয় আরাবল্লী বাঁচানো মানে উত্তর ভারতের ভবিষ্যৎ বাঁচানো।
