
জার্মানিতে বার্লিনের হার্টি স্কুলে এক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করছে বর্তমান বিজেপি সরকার। রাহুল বলেন, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) বিরোধীদের দমন করতে ব্যবহৃত হচ্ছে, কিন্তু বিজেপির বিরুদ্ধে এই সংস্থাগুলোর কোনো মামলা নেই।
রাহুল আরও বলেন, “দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, ইডি ও সিবিআইকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যারা বিজেপির বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তাদের লক্ষ্য করা হচ্ছে, ব্যবসায়ীদেরও ভয় দেখানো হচ্ছে।” তিনি বলেন, ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখন গণতান্ত্রিক মূলনীতির বিপরীতে কাজ করছে।
কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা যুগ থেকে এই সংস্থাগুলো দেশের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। রাহুল জানান, কংগ্রেস কখনো এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের দখলের হাতিয়ার হিসেবে দেখেনি, কিন্তু বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। তার অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিক ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এই সংস্থাগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে।
রাহুলের বক্তব্যে গণতন্ত্রের সঙ্কটকেও সামনে আনা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা বিজেপির বিরুদ্ধে নয়, ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উপর তাদের দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আমাদের একটি কার্যকর বিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের এই সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের, কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। তাই তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রয়োজন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন এবং দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার আহ্বান জানান।
এই ধরনের অভিযোগ ও বিতর্ক দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইডি-সিবিআই সম্পর্কিত এমন বিতর্ক সাধারণভাবে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে।
