
কলকাতা শুধু সংস্কৃতি বা ইতিহাসের শহর নয়, এ শহর আসলে খাবারের শহর। আর কলকাতার স্ট্রিট ফুডের কথা উঠলেই প্রথম যে নামটা মনে আসে, তা হল এগরোল। বিকেলের নাস্তায়, অফিস ফেরার পথে কিংবা রাতের খিদের সঙ্গী হিসেবে এগরোল বাঙালির চিরকালের প্রিয়। ডিম, পরোটা আর মশলার সহজ মেলবন্ধনেই তৈরি এই খাবার আজ গোটা দেশের কাছে কলকাতার পরিচয় বহন করে।
কলকাতার এগরোলের ইতিহাস দীর্ঘ। পার্ক স্ট্রিট থেকে নিউ মার্কেট, পার্ক সার্কাস থেকে বালিগঞ্জ প্রায় প্রতিটি এলাকারই নিজস্ব রোলের ঠিকানা রয়েছে। তার মধ্যেই কিছু দোকান বছরের পর বছর ধরে নিজেদের স্বাদ আর মান ধরে রেখেছে, যা আজ কিংবদন্তি।
পার্ক স্ট্রিটের কুসুম রোলস এই তালিকায় প্রথম দিকেই থাকবে। মেট্রোর কাছেই এই ছোট দোকানে দিনের প্রায় সব সময়ই ভিড়। পাতলা পরোটা, ঠিকঠাক ভাজা ডিম, কাঁচা পেঁয়াজ আর সবুজ চাটনির মিশ্রণ, একবার খেলে সহজে ভুলে যাওয়ার নয়। পার্ক স্ট্রিটে গেলে অনেকেই কুসুমের এগরোল না খেয়ে ফিরতে পারেন না।
নিউ মার্কেট এলাকার নিজামস তো কলকাতার কাঠি রোলের জনক হিসেবেই পরিচিত। ১৯৩০ সাল থেকে পথচলা শুরু করা এই দোকানের এগরোল আজ বিশ্ববিখ্যাত। এখানে শুধু এগরোল নয়, চিকেন, মাটন থেকে শুরু করে নানা ধরনের রোল পাওয়া যায়। ঐতিহ্য আর স্বাদের এমন মেলবন্ধন খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়।
নিউ মার্কেটেই আরেক নাম হেরিটেজ কার্কো। এখানকার ডবল এগ চিকেন রোল আলাদা করে নজর কাড়ে। ডিমের পরিমাণ, মশলার ঝাঁজ আর পরোটার খাস্তা ভাব, সব মিলিয়ে একেবারে জম্পেশ।
পার্ক সার্কাসের জিশান মূলত মোগলাই খাবারের জন্য বিখ্যাত হলেও এখানকার এগরোলের জনপ্রিয়তাও কম নয়। বিশেষ করে মেন রোল আর মাটন বটিরোলের সঙ্গে এগরোলও সমানভাবে মানুষের পছন্দের তালিকায় থাকে। ভিড় সামলাতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হলেও স্বাদের জন্য মানুষ সেই অপেক্ষা করতে রাজি।
বালিগঞ্জের ক্যাম্পারি তুলনামূলকভাবে সস্তা দামে ভালো মানের এগরোল পরিবেশন করে। ছাত্র থেকে অফিসযাত্রী, সবাইয়ের কাছেই এই দোকান পরিচিত নাম।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কলকাতার এগরোল শুধু একটি খাবার নয়, এটি শহরের আত্মার অংশ। স্বাদ, ইতিহাস আর আবেগ এই তিনের মেলবন্ধনেই কলকাতার এগরোল আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
