
সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে, যার মাধ্যমে মায়ের পরিচয়ের ভিত্তিতেই সন্তানেরা তফসিলি জাতির শংসাপত্র পেতে পারবে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই রায় দেন। মামলা ছিল পুদুচেরীর এক মহিলার ও তাঁর কন্যা সংক্রান্ত। মহিলার স্বামী উচ্চবর্ণের হওয়ায় এত দিন তাদের সন্তানরা জাতিগত শংসাপত্র পায়নি।
মাদ্রাজ হাই কোর্টে প্রথমে কিশোরী কন্যার জন্য শংসাপত্রের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ হয় সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালত জানায়, যদি মা তফসিলি জাতিভুক্ত হন এবং সন্তান মায়ের সান্নিধ্যে বড় হন, তবে সন্তানের জন্য মায়ের পরিচয় যথেষ্ট। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “যুগ পাল্টেছে, মায়ের পরিচয়ের ভিত্তিতেই কেন শংসাপত্র দেওয়া যাবে না?”
আইনজ্ঞরা এই রায়কে দৃষ্টান্তমূলক বলছেন। এর আগে ১৯৬৪ ও ২০০২ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল নোটিফিকেশনে বাবা-ভিত্তিক শংসাপত্রের প্রথা চালু ছিল। ২০০৩ সালে পুনীত রাই বনাম দীনেশ চৌধরি মামলায়ও সন্তানের জাতি বাবার নিরিখে নির্ধারিত হতো। তবে ২০১২ সালের রমেশভাই দাভাই নাইকা বনাম গুজরাত সরকার মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আন্তঃবর্ণ বিবাহের ক্ষেত্রে সন্তানের জাতি নির্ধারণে সব তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হলো, সন্তানের মায়ের পরিচয়ের ভিত্তিতেই তফসিলি জাতির শংসাপত্র দেওয়া যেতে পারে, যদি প্রমাণ থাকে যে সন্তান মায়ের সম্প্রদায়ের অন্যান্য সদস্যদের মতোই বঞ্চনা বা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই রায় ভবিষ্যতে আন্তঃবর্ণ বিবাহের ক্ষেত্রে সন্তানের অধিকার সুরক্ষিত করবে এবং শিক্ষাগত ও সরকারি সুযোগ-সুবিধায় বৈষম্য কমাবে।
এই রায়কে নাগরিক অধিকার ও লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
