
রাষ্ট্রপুঞ্জ আবারও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত শনিবার ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসের হত্যা ও দেহে আগুন লাগানোর ঘটনায় আন্তর্জাতিক সংস্থা সরাসরি মুখ খুলল। রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে, যে কোনো দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়।
রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজ়ারিক বলেন, “বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। প্রত্যেক নাগরিক সংখ্যালঘু হোক বা সংখ্যাগরিষ্ঠ নিরাপদ বোধ করা উচিত। সরকারকে অবশ্যই সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে হবে।”
এই মন্তব্যের আগে ভারতও বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। গত রবিবার ময়মনসিংহের ঘটনা নিয়ে ভারতের বিবৃতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা সরকারের পাল্টা বক্তব্য আসে। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তবে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের এই উদ্বেগ প্রকাশের আগে, হাদির হত্যার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতেও তারা বক্তব্য দিয়েছিল। গুতেরেসের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা উচিত। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনা দেশটির সংবাদপত্রের দফতরে আগুন ধরানোর মতো ঘটনায় প্রকট হয়। এই পরিস্থিতি শুধু দেশেরই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের এই বার্তায় স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চিতকরণ এখন আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রে।
এদিকে, ময়মনসিংহের ঘটনার প্রেক্ষিতে ঢাকা এবং নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক চাপও ক্রমশ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নজর রাখছেন, দেশের সরকার কীভাবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
