
ব্যস্ত জীবনের দৌড়ঝাঁপে মানুষের মধ্যে মুখোমুখি কথোপকথনের সময় ক্রমশ কমছে। মেসেজ, সোশ্যাল মিডিয়া, ভয়েস নোট বা ভিডিও কলে অভ্যস্ত হয়ে পড়লেও মনোবিদদের মতে, এই দ্রুতগতির যোগাযোগ অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দেয়। অথচ ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বন্ধুত্ব কিংবা পেশাগত জীবনে সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি হল অর্থপূর্ণ ও সুস্থ কথোপকথন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল শোনা। অনেকেই কথা বলতে ভালোবাসেন, কিন্তু অপর পক্ষ কী বলছে, তা মন দিয়ে না শুনলে কথোপকথন একতরফা হয়ে যায়। ধৈর্য ধরে শুনে, ভেবে উত্তর দিলে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
দ্বিতীয়ত, কথাবার্তার সময় মূল বিষয় থেকে সরে যাওয়া উচিত নয়। দীর্ঘ আলোচনায় নানা প্রসঙ্গ উঠে এলেও মনোযোগ হারালে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ পড়তে পারে। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বা পেশাগত সম্পর্কে।
তৃতীয় দিকটি হল ভাষার সরলতা। ভারী বা জটিল শব্দচয়ন অনেক সময় বক্তব্যকে দুর্বোধ্য করে তোলে। সহজ, পরিষ্কার ভাষায় কথা বললে ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা কমে এবং বার্তা স্পষ্টভাবে পৌঁছয়।
চতুর্থত, কথোপকথন শুধু শব্দেই সীমাবদ্ধ নয়। মুখের ভাব, চোখের দৃষ্টি বা শরীরী ভাষাও অনেক কিছু প্রকাশ করে। অপর পক্ষের এই ইঙ্গিতগুলি বুঝতে পারলে কখন কথা বলা উচিত বা কখন চুপ থাকা ভালো, তা সহজেই বোঝা যায়।
সবশেষে, কথা বলার পর নিশ্চিত হওয়া জরুরি যে অপর পক্ষ বিষয়টি ঠিকভাবে বুঝেছে কি না। প্রয়োজনে প্রশ্ন করে বা সংক্ষেপে আবার বললে ভুল ধারণা দূর হয়।
সঠিক কথোপকথন শুধু সমস্যার সমাধানই নয়, সম্পর্কের ভিতও মজবুত করে এ কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
