
রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চমক। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য গঠিত জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি)-তে যোগ দিলেন টলিউডের পরিচিত মুখ ও প্রাক্তন তৃণমূল যুবনেতা শোয়েব কবীর। হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বাধীন এই নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন তিনি। জেইউপি-র রাজ্য মুখপাত্র হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে শোয়েবকে।
একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন শোয়েব। মুর্শিদাবাদ জেলা যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় গোষ্ঠীকোন্দল, অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবং তরুণ নেতৃত্বের উপেক্ষার অভিযোগ তুলে তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে দমবন্ধ করা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং আদর্শগত বিচ্যুতি মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।
দলবদলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শোয়েব কবীর বলেন, নতুন কিছু করার সময় এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল গঠনের সাহসী সিদ্ধান্ত থেকেই তিনি অনুপ্রাণিত। তাঁর মতে, হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সুযোগ ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
রাজনীতির পাশাপাশি অভিনয় জগতেও শোয়েব কবীরের পরিচিতি রয়েছে। অনীক দত্ত পরিচালিত ‘অপরাজিত’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। এছাড়া ‘মির্জ়া’ ছবিতে অঙ্কুশ হাজরার সহ-অভিনেতা ছিলেন তিনি। ওটিটি সিরিজ় ‘স্টেট অফ সিজ়: ২৬/১১’-তে মুম্বই হামলার অভিযুক্ত অজমল কসাবের চরিত্রে তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছিল দর্শকের।
দল গঠনের পর থেকেই হুমায়ুন কবীর বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত মুখদের দলে টানার চেষ্টা করছেন। শোয়েব কবীরের যোগদানকে সেই কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। হুমায়ুন-ঘনিষ্ঠদের দাবি, আগামী দিনে জেইউপি-তে আরও পরিচিত মুখ যোগ দিতে পারেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।
