
পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যমন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরীর এক মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নারীসুরক্ষা নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, আজকাল খবরের কাগজ পড়তে ভয় হয়। মেয়েদের উপর অত্যাচারের খবর দেখলে লজ্জা লাগে। যদিও তিনি কোনও রাজ্যের নাম উল্লেখ করেননি, তবু তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে নন্দিনী মেলার মঞ্চ থেকে বিপ্লব রায়চৌধুরী বলেন, মেয়েদের উপর নির্যাতনের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। সমাজ হিসেবে এর দায় আমাদের সকলের। তিনি আরও বলেন, এখন আর শুধু লজ্জা পেয়ে চুপ করে থাকার সময় নেই, লজ্জা ভেঙে মেয়েদের আরও বেশি করে এগিয়ে দিতে হবে, যাতে তারা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
মন্ত্রী কোনও রাজ্যের নাম না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি তিনি পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন? এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিজেপি রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শুরু করেছে। বিরোধী দলনেতা দিব্যেন্দু অধিকারী দাবি করেন, খোদ রাজ্যের মন্ত্রীই নারীসুরক্ষা নিয়ে ‘সত্যি কথা’ বলে ফেলেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গ নারীদের জন্য অসুরক্ষিত হয়ে উঠেছে।
তবে বিতর্ক বাড়তেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন বিপ্লব রায়চৌধুরী। তিনি বলেন, রাজ্যে মেয়েরা অসুরক্ষিত এমন কথা তিনি বলেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নারীসুরক্ষা ও নারী উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ করেছে এবং কঠোরভাবে অপরাধ দমন করছে। তাঁর মতে, কিছু সমাজবিরোধী মানুষের জন্য এই ধরনের ঘটনা ঘটে, কিন্তু সরকার তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করছে না।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও বিজেপির সমালোচনার পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, দেশের নানা প্রান্তে নারী নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণ করে যে সমস্যা শুধু একটি রাজ্যের নয়। তাঁর দাবি, মৎস্যমন্ত্রীর বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে বিরোধীরা।
সব মিলিয়ে, নারীসুরক্ষা নিয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল, যা আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
