
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে ফের সরব হলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বড়দিন উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক অডিও বার্তায় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস ও তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। শেখ হাসিনার দাবি, বেআইনিভাবে ক্ষমতা দখল করে বর্তমান শাসক গোষ্ঠী দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অকথ্য অত্যাচার চালাচ্ছে।
হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ সব সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। আওয়ামী লীগ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছিল।” কিন্তু বর্তমান সরকার সেই ঐতিহ্য নষ্ট করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে এবং ধর্মাচরণে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি দীপু চন্দ্র দাসের হত্যা সহ একাধিক সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে অ-মুসলিমদের উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘুদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এই ধরনের নৃশংসতা গোটা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে বক্তব্যের শেষে আশার কথাও শোনান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এই অন্ধকার সময় বেশিদিন মেনে নেবে না। বড়দিনের উৎসব খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেবে। “অন্ধকারের শেষ হবে, আলো আবার ফিরবেই,” এই বিশ্বাসের কথাই তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
