
নন্দীগ্রামের বৃন্দাবন চকে ঠিক সেই মুহূর্ত, যখন রাজনীতির আকাশে বজ্রপাত! তৃণমূল কর্মী মহাদেব বিষয়ীর স্মরণসভায় মঞ্চে ওঠে বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক, আর শুরু হয় সরাসরি আক্রমণ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জামাত আর ভারতের আরএসএস এক মুদ্রার দুই দিক যেখানে হিংসা, সেখানে রাজনৈতিক শক্তি!” জনসমুদ্রে মুহূর্তেই উত্তেজনার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে।
পার্থের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের আগুন ধরিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের জীবনে হস্তক্ষেপ করবে তারা। “আপনারা কি সেই বাংলা চান যেখানে কী খাওয়া হবে, কী পরা হবে সবই ঠিক করবে বিজেপি? মাছ, মাংস, ডিম খাওয়াও বন্ধ হবে। এমনকি বাড়িতে বিনা অনুমতিতে রান্না করলে ঘরে তালা ঝুলানো হবে,” মঞ্চ থেকে জনতার দিকে ছুঁড়ে দেন সরাসরি প্রশ্ন।
সভায় পার্থ মোদি সরকারের কেন্দ্রীয় নীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পুলওয়ামা হামলার পর প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ শেষ বলে ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু তারপরও পহেলগাঁও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই তফাৎ কি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তোলে না? প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি।
স্মরণসভাটি আয়োজন করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর নন্দীগ্রামে তৃণমূল কর্মী মহাদেব বিষয়ীর মৃত্যু স্মরণে। দোকানের ভিতর থেকে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন পার্থ ভৌমিক ছাড়াও জেলা তৃণমূলের অন্যান্য নেতৃত্ব।
পার্থের ভাষণে উঠে আসে রাজনৈতিক বাস্তবতার কঠিন চিত্র! শক্তির লোভে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা ও জীবনযাত্রা কতটা প্রভাবিত হতে পারে। তাঁর সরাসরি ও তীক্ষ্ণ ভাষা তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
পার্থের এই মন্তব্য আগামী নির্বাচনের আগে রাজনীতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করবে। নন্দীগ্রামের স্মরণসভা যেন এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে ভক্ত-সমর্থক থেকে রাজনৈতিক দলের মধ্যে উত্তেজনা উষ্ণ হয়ে উঠেছে। পার্থের বক্তৃতা, সরাসরি প্রশ্ন, এবং সাহসী দাবি! সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক নতুন আলোচনার সূত্র।
