
ডিসেম্বরের শুরুতে দেশজুড়ে ইন্ডিগোর নজিরবিহীন বিমান বিভ্রাট এবং যাত্রী হয়রানির ঘটনায় অবশেষে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের নির্দেশে গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের প্রথম রিপোর্ট জমা দিয়েছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)-এর কাছে। সূত্রের খবর, ডিজিসিএ-র যুগ্ম মহাপরিচালক সঞ্জয় কে ব্রাহ্মণের নেতৃত্বে তৈরি এই বিশেষ রিপোর্টটি ইতিমধ্যেই অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কে. রামমোহন নাইডু এবং সচিব সমীর কুমার সিনহার দপ্তরে পৌঁছেছে। তবে এই তদন্তের জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। আগামী সোমবার দিল্লি হাই কোর্টে সিলবন্ধ খামে এই রিপোর্ট জমা দেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ব্যবস্থাপনাগত সমস্যার জেরে ইন্ডিগোর কয়েকশো ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়। এই নজিরবিহীন সংকটের কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিজিসিএ। কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন সঞ্জয় কে ব্রাহ্মণ। তাঁর সঙ্গে প্যানেলে ছিলেন ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল অমিত গুপ্ত, সিনিয়র ফ্লাইট অপারেশনস ইনস্পেক্টর ক্যাপ্টেন কপিল মাঙ্গলিক এবং ফ্লাইট অপারেশন্স ইনস্পেক্টর ক্যাপ্টেন রামপাল।
এই কমিটির মূল লক্ষ্য ছিল কেন হঠাৎ করে পরিষেবা এমন মুখ থুবড়ে পড়ল, তার কারণ অনুসন্ধান করা। পিআইবি-র বিবৃতি অনুযায়ী, খোদ বিমান পরিবহণ মন্ত্রী এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়। তদন্ত শুরু হতেই কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ৪ জন ফ্লাইট ইন্সপেক্টরকে বরখাস্ত করা হয়েছে, যা দেশের এভিয়েশন ইতিহাসে সাম্প্রতিককালের অন্যতম কড়া পদক্ষেপ। যদিও রিপোর্টের বিষয়বস্তু এখনও গোপন রাখা হয়েছে, তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ইন্ডিগোর রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance) এবং অপারেশনাল প্রোটোকলে কোনো বড় ধরণের বিচ্যুতি ছিল কি না, তা এই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কার ভুলে হাজার হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে ভোগান্তির শিকার হলেন, তার দায় নির্দিষ্ট করাই ছিল এই প্যানেলের প্রধান উদ্দেশ্য।
ইন্ডিগো বর্তমানে ভারতের আকাশপথের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে তাদের এই বিপর্যয় কেবল একটি সংস্থার সমস্যা নয়, বরং জাতীয় বিমান পরিষেবার নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ডিজিসিএ জানিয়েছে, বিমান বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সোমবার দিল্লি হাই কোর্টে সিলবন্ধ খামটি খোলার পরেই জানা যাবে, এই আকাশছোঁয়া বিপত্তির নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কি ও অপরাধী কারা।।
