
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে নতুন করে আলোচনার আবহে বড় মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর অনুমোদন ছাড়া ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে কোনও শান্তি চুক্তি কার্যকর হবে না। ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
আগামী রবিবার ফ্লোরিডায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন ট্রাম্প। সেই বৈঠকের আগেই দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত তার হাতে কিছুই নেই।” তাঁর কথায়, সম্ভাব্য শান্তি প্রস্তাব কী রয়েছে, তা তিনি আগে খতিয়ে দেখতে চান।
সূত্রের খবর, প্রায় চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে জেলেনস্কি একটি নতুন ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তুত করছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, ওই প্রস্তাবের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিকল্পনায় একটি অসামরিক অঞ্চল গঠন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী স্থিতিশীলতা নিয়ে একাধিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও শীঘ্রই কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পুতিন ও জেলেনস্কি উভয়ের সঙ্গেই তাঁর সম্পর্ক ভালো এবং এই আলোচনা যুদ্ধ থামানোর পথে সহায়ক হতে পারে।
বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ, পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও জেলেনস্কি আগেই জানিয়েছেন, এই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনও সাফল্যের আশা করা ঠিক হবে না।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নিজের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চাইছে, আর বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে এই বৈঠক থেকে কী বার্তা আসে তার দিকে।
