
মেদিনীপুরের শরৎপল্লিতে জন্ম অভিনেতা ও গায়ক অনির্বাণ ভট্টাচার্যের নাম এবার আলোচনায় এসেছে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কারণে। বর্তমানে তিনি কলকাতার গড়িয়ায় মা ও বোনের সঙ্গে থাকেন, কিন্তু এখনও তার নাম মেদিনীপুর পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ২৯৯ নম্বর বুথের ভোটার তালিকায় রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় অনির্বাণকে শুনানিতে ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূল কারণ, ২০০২ সালের এনুমারেশন ফর্মে তার কোনো লিঙ্ক উল্লেখ করা যায়নি। তবে এখনও আনুষ্ঠানিক নোটিস পাঠানো হয়নি।
অনির্বাণ বলেন, “২০০২ সালের তালিকায় আমার বা পরিবারের নাম নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক আপডেটেড তালিকায় আমার মা, বোন এবং আমার নাম আছে। যদি শুনানিতে ডাক আসে, তা সরকারি কর্মকর্তা থেকেই জানব। আমি অবশ্যই উপস্থিত থাকব।”
মেদিনীপুর সদরের মহকুমাশাসক মধুমিতা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যাদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কোনো লিঙ্ক পাওয়া যায়নি, তাদের সবাইকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এই ঘটনা তোলপাড় তৈরি করেছে। তৃণমূল নেতা বুদ্ধদেব মণ্ডল বলেন, “অনির্বাণের মতো বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে এসআইআর পদ্ধতির বিরুদ্ধে আমরা নই।” অন্যদিকে বিজেপি নেতা শঙ্কর গুছাইত মন্তব্য করেছেন, “এসআইআর একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। যেকোনো ভোটারকে ডাক দেওয়া যেতে পারে। যথাযথ কাগজ দেখালেই সব ঠিক হয়ে যাবে।”
এর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রক্রিয়াগত নিয়মের গুরুত্ব আবারও ফুটে উঠেছে। অনির্বাণের ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তির নয়, বরং বহু ভোটারের সচেতনতা এবং প্রক্রিয়ার সঠিক বাস্তবায়নের উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
