
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার অনেক আগেই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। এবার ইস্যু— ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (Special Intervention Roll)। এই প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরব হলো তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের দাবি, বিজেপি যে ‘২ কোটি’ নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে, কমিশন কার্যত তাদের ‘বি-টিম’ হয়ে সেই লক্ষ্যপূরণেই নেমেছে।
শনিবার এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির প্রথম দিনেই রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরে হাজির হয় তৃণমূলের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মানস ভূঁইয়া, মলয় ঘটক, অরূপ বিশ্বাস এবং শশী পাঁজার মতো হেভিওয়েট মন্ত্রীরা দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন কমিশনের সঙ্গে। বৈঠক শেষে তাঁরা কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক প্রশ্ন তোলেন।
রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের প্রধান অভিযোগ হলো, নির্বাচনী নিয়ম মেনে ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্ব ইআরও (Electoral Registration Officer)-দের। কিন্তু বর্তমানে সেই ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে কেন্দ্রীয় কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাম বাদ দেওয়ার কাজ চলছে। তৃণমূলের দাবি:
- ইতিমধ্যে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
- পরবর্তী ধাপে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১ কোটি ৩৪ লক্ষে নিয়ে যাওয়ার ‘ছক’ কষা হয়েছে।
- ডিইও (DEO)-দের ওপর অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়ে ইআরও-দের গুরুত্বহীন করে তোলা হচ্ছে।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, “যিনি ফার্স্ট অ্যাপিলেট অথরিটি (DEO), তিনিই যদি সব সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন, তবে সাধারণ মানুষ ইআরও-র কাছে আবেদন করে কী সুরাহা পাবেন?”
শুনানি প্রক্রিয়া নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছে শাসকদল। অভিযোগ উঠেছে, শুনানির জন্য প্রবীণ নাগরিকদের ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বৃদ্ধের পক্ষে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে মানবিকতার প্রশ্ন তুলেছেন মন্ত্রীরা।
এখন বড় প্রশ্ন হলো, এই এসআইআর প্রক্রিয়া কি সত্যিই ভোটার তালিকা থেকে ‘ভুয়া’ ভোটার বাদ দিয়ে স্বচ্ছতা আনার পদক্ষেপ? নাকি এটি বাংলার মসনদ দখলের কোনো গোপন রাজনৈতিক কৌশল?
বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ লক্ষ ভুয়া ভোটার রয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের আশঙ্কা, এর আড়ালে প্রকৃত ভোটারদের, বিশেষ করে তাদের জনভিত্তি আছে এমন এলাকাগুলো থেকে নাম বাদ দিয়ে ভোটের লড়াই কঠিন করে তোলার চেষ্টা চলছে।
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার এই লড়াই এখন শিয়রে সংক্রান্তি। তৃণমূলের অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগের। আবার যদি এটি কেবলই একটি প্রশাসনিক সংস্কার হয়, তবে তার পদ্ধতি কেন এত জটিল ও সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর, সেই প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত এসআইআর-এর এই ‘অস্ত্র’ কার দিকে বুমেরাং হয়ে ফেরে, সেটাই এখন দেখার।।
