
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই ঘর গোছাতে শুরু করেছে বিজেপি। রবিবার ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল ব্লকের বাকড়ায় বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’য় উপস্থিত হয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও আক্রমণ শানালেন শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। একদিকে যেমন তিনি ৩ লক্ষ টাকার বাড়ির প্রতিশ্রুতি দিলেন, তেমনই তৃণমূলের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়েও তুললেন চুরির অভিযোগ। পাল্টা আক্রমণ শানাতে ছাড়েনি ঘাসফুল শিবিরও।
জঙ্গলমহলের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যে টাকা দেওয়া হয় তাতে সঠিক বাড়ি তৈরি সম্ভব নয়। তাই ২০২৬-এ বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারকে বাড়ি তৈরির জন্য ৩ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পটি আসলে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে অনুকরণ করা। তাঁর দাবি, বিজেপি শাসিত রাজ্যে মহিলারা ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা পান, যা বাংলার তুলনায় অনেক বেশি।
এদিন শুভেন্দুর নিশানায় ছিল জঙ্গলমহলের বালি ও জমি মাফিয়া থেকে শুরু করে বেকারত্ব ইস্যু। বাকড়া এলাকায় ১২৫টি পরিবারের জমি জালিয়াতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জীবিত মানুষকে মৃত সাজিয়ে জমি বিক্রি করে দিচ্ছে তৃণমূল।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জঙ্গলমহলের যুবকরা কাজ না পেয়ে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হতে বাধ্য হচ্ছেন, অথচ শাসকদলের নেতারা বালি ও সোনা পাচার করে সম্পদ বৃদ্ধি করছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যকে নিছক ‘গিমিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি প্রসুন ষড়ঙ্গী বলেন, “ওরা পরিযায়ী পাখির মতো। ভোট এলেই মিথ্যা প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেয়। সারা বছর মানুষের পাশে ওদের দেখা যায় না।” তৃণমূলের দাবি, বিজেপি কেবল বিভ্রান্তি ছড়াতে জানে, কিন্তু সাধারণ মানুষ উন্নয়নের পক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথেই আছেন।
ভোটের দামামা বাজলেই বাংলার রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতির জোয়ার আসে। একদিকে যখন বিজেপি ৩ লক্ষ টাকার বাড়ির স্বপ্ন দেখাচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূল তাদের জনমুখী প্রকল্পগুলো দিয়ে জমি ধরে রাখতে মরিয়া। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থেকেই যায়— এই প্রতিশ্রুতিগুলো কি আদৌ বাস্তবায়িত হবে, নাকি কেবলই ভোটের বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল?
জঙ্গলমহলের মাটির লড়াইয়ে এখন দুই পক্ষই একে অপরকে ‘চোর’ বা ‘মিথ্যেবাদী’ প্রমাণ করতে ব্যস্ত। জমি জালিয়াতি বা বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যের মতো বাস্তব সমস্যাগুলো যখন রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির তলায় চাপা পড়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষের বিশ্বাস তলানিতে এসে ঠেকে। রাজনীতিকদের এই কথার লড়াই শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনের মানোন্নয়ন ঘটাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। ছাব্বিশের নির্বাচনে ব্যালট বক্সেই কি মিলবে এর উত্তর? সময় সেই বিচার করবে।।
