
ভরতপুরের বিধায়ক ও জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কলকাতা হাই কোর্টে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার জন্য আবেদন করতে যাচ্ছেন। তিনি জানান, নতুন দল গঠন করার পর থেকেই শাসকদলের নির্দেশে পুলিশ তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের ওপর নজরদারি করছে। তাঁর দাবি, একমাত্র মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সামনে পর্যন্ত পুলিশ ঘোরাফেরা করছে এবং ছবি তুলছে।
সম্প্রতি হুমায়ুন ও তাঁর পুত্রের মধ্যে নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে সংঘাত ঘটে। এই ঘটনায় তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ গ্রেফতার হন, কিন্তু সাত ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি রাতেই থানা থেকে ছাড়া পান। হুমায়ুন অভিযোগ করেছেন, পুলিশের নজরদারি ও নিরাপত্তারক্ষীর অযাচিত আচরণের কারণে তিনি আর রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করতে চান না। তিনি বলেন, ‘‘যদি আমার জামাইয়ের গায়ে পুলিশ হাত দেয়, থানার ইটও খুলে দেব।’’ এছাড়াও তিনি অশান্তির সময় মিষ্টি খাওয়ার উদাহরণ দিয়ে ক্ষুদ্ররূপে প্রকাশ করেছেন তার রকমধর্মী আক্রমণাত্মক হুমকি।
হুমায়ুন বলেন, তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পরও তিন জন কনস্টেবল তাঁকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন। তবে তাদের মধ্যে একজন প্রায়ই ছুটিতে থাকেন এবং বাকি দু’জন কার্যকরী দায়িত্ব পালন করেন না। এ সব কারণে তিনি হাই কোর্টে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার আবেদন করতে চলেছেন।
হুমায়ুনের ছেলে গোলাম জানিয়েছেন, তিনি বাবার সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীর সংঘাত এড়াতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে অবধি হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হন। পুরো ঘটনা পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা হয়েছে এবং বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজও সরবরাহ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, পুলিশ ও শাসকদলের সংযোগের কারণে তাঁর এবং পরিবারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। হাই কোর্টে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার আবেদন রাজনৈতিক ও আইনি পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
হুমায়ুনের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চাওয়ার প্রক্রিয়া পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনার উপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে নতুন দলের কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে।
