
শান্ত ঠাকুরনগর এখন রাজনৈতিক রণক্ষেত্র। ঠাকুরবাড়িতে মতুয়াদের ওপর হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল মমতাবালা ঠাকুরপন্থী অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ। আগামী ৫ জানুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে রাজ্যজুড়ে চাকা জ্যাম করার ডাক দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ১৩ জন অভিযুক্তের মধ্যে পুলিশ মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করেছে, বাকি ১২ জন এখনও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
গাইঘাটার ঠাকুরবাড়িতে এই অশান্তির মূলে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর সম্প্রতি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, এই প্রক্রিয়ায় অন্তত ১ লক্ষ মতুয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের প্রতিবাদে গত বুধবার একটি সভার ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। অভিযোগ, সেই সভাতেই শান্তনু ঠাকুরের অনুগামীরা হামলা চালায়। গোঁসাই-পাগলদের মারধর এমনকি মহিলাদের হেনস্তারও অভিযোগ ওঠে। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন গোঁসাই পরিষদের সম্পাদক নান্টু হালদার।
গাইঘাটা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ চৌধুরী সাফ জানিয়েছেন, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা তাঁরা বরদাস্ত করবেন না। তিনি বলেন, “১২ জন অভিযুক্ত এখনও আমাদের ভয় দেখাচ্ছে। হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের ভক্তদের ওপর এই অপমান আমরা মেনে নেব না। ৫ তারিখ গোটা রাজ্য দেখবে মতুয়ারা কতটা ঐক্যবদ্ধ।” যদিও শান্তনু ঠাকুরের অনুগামী সুখেন গাইনের দাবি, এই আন্দোলন রাজনৈতিক গিমিক ছাড়া আর কিছুই নয়।
নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনে ২০০২ সালের আগের নথিপত্র বা ‘লিগ্যাসি ডেটা’র ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মতুয়াদের মতো উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের অনেকের কাছেই সেই সময়ের পর্যাপ্ত নথি নেই। ফলে নাম বাদ যাওয়ার ভয় দানা বেঁধেছে। বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুর সিএএ (CAA)-কে রক্ষাকবচ হিসেবে দেখালেও, মমতাবালা ঠাকুরদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা গেলে নাগরিকত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
ভয় কতটা সত্যি? পরিসংখ্যান বলছে, উত্তর ২৪ পরগনার একাংশ ও নদীয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার হার অন্য জায়গার তুলনায় কিছুটা বেশি। ফলে সাধারণ মানুষের এই আতঙ্ককে একেবারে ‘অমূলক’ বলা যায় না। যান্ত্রিক ত্রুটি বা নথির অভাবে সাধারণ নাগরিক যাতে ভোটাধিকার না হারান, সেটাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। ভোট আসতেই মতুয়া তাস খেলা শুরু করেছে সব দলই। তবে সাধারণ মতুয়া ভক্তদের কাছে দিনশেষে লড়াইটা তাঁদের অস্তিত্বের। ৫ জানুয়ারির পথ অবরোধ কেবল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি নয়, বরং নিজেদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখার এক নিঃশব্দ প্রতিবাদও বটে।।
