
কলকাতা: দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে আবেগপ্রবণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানালেন, সহ্যেরও একটি সীমা আছে। সম্প্রতি রাজ্যে ঘটে যাওয়া একাধিক মৃত্যু এবং আত্মহত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সব মানুষের মঙ্গল ও শান্তির জন্য মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করছি, কিন্তু এসব আর সহ্য হচ্ছে না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর রাজনীতির ভিত্তি কোনও বিশেষ ধর্ম নয়, বরং সর্বধর্ম সমন্বয় ও মানবিকতার দর্শন। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “শিখদের অনুষ্ঠানে গেলে মাথায় কাপড় ঢাকি, তখন তো কেউ প্রশ্ন তোলে না। তাহলে রোজায় গেলে আপত্তি কোথায়?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপির ‘তোষণ রাজনীতি’-র অভিযোগের জবাব দিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য। “যত বাধাই আসুক, লড়াই চলবে। বাংলার মানুষ মাথা নত করে না,” উল্লেখ করে তিনি সহিষ্ণুতাকে দুর্বলতার সঙ্গে মেলানোর অনভিপ্রায় প্রকাশ করেন।
দুর্গা অঙ্গন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাও তিনি ব্যাখ্যা করেন। এই প্রকল্পের আনুমানিক খরচ ২৬২ কোটি টাকা। মন্দির চত্বরের চারপাশে ২০ ফুট চওড়া ঘোরার পথ, ১,৮০০টি স্তম্ভ, ৫৪ মিটার উচ্চতার মূল গর্ভগৃহ এবং অন্যান্য মণ্ডপসহ এটি বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গাঙ্গন হিসেবে তৈরি হবে। প্রতিদিন এক লাখ ভক্তের আগমন নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হলো, রাজনীতি ও ধর্মীয় সংহতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা তাঁর অগ্রাধিকার, যেখানে সহনশীলতা এবং মানবিকতার মূল্য সর্বোচ্চ।
