
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে ফের তীব্র বিতর্কে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বাঁকুড়ার বরজোড়ার জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিজেপির আইটি সেলের এক ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের ভিতরে বসেই গোটা প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন। মমতার কথায়, “এটা একেবারে বড় কেলেঙ্কারি। রাজ্যের আধিকারিকরাও কিছু জানতে পারছেন না।”
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, প্রথম দফায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে প্রবীণদের অমানবিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। “বয়স্ক মানুষদের ডেকে তিনতলায় তুলছে। এরা নিজের বাবা-মাকেই সম্মান করতে জানে না,” বলেন মমতা। এসআইআর সংক্রান্ত আতঙ্ক ও হয়রানিতে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি, তাঁদের নামে জেলায় জেলায় শহিদবেদি তৈরির ডাকও দেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্র ও বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে বলেন, “নিজের পরিবার গোছানোর জন্য বিজেপির দালালি করছেন।” একই সঙ্গে এসআইআর শুনানিকেন্দ্রের ভিতরে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের (বিএলএ) ঢুকতে না দেওয়ায় প্রশ্ন তোলেন তিনি। মমতার দাবি, সব দলের প্রতিনিধিদেরই ভিতরে থাকার অনুমতি দেওয়া হোক।
দলের কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, আপাতত সব উৎসব-পিকনিক বন্ধ রেখে ভোট ও এসআইআর সংক্রান্ত কাজে মন দিতে হবে। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের জন্য নতুন স্লোগানও ঘোষণা করেন তিনি “ফাটাফাটি খেলা হবে।” কর্মীদের ‘শক্তিশালী হয়ে ঘোরার’ আহ্বান জানিয়ে রাস্তায় নামার ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রকে বাঁচানোর লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে।”
