
প্রায় ছয় মাসের নীরবতা ভেঙে আবার বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে হাজির দিলীপ ঘোষ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কলকাতা সফরে বিজেপির কোর কমিটি ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে তাঁকে দেখা যেতেই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই এই উপস্থিতিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
লোকসভা নির্বাচনের পর গত জুনে একটি সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিলেও, তার পর দীর্ঘ সময় তাঁকে কোনও বড় দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। এমনকি আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা কিংবা মে মাসে অমিত শাহের আগের সফর কোনও ক্ষেত্রেই আমন্ত্রণ পাননি তিনি। সেই সময় নিজেই বলেছিলেন, “পদাধিকারী নই, তাই ডাক পাইনি।” তবে দলের অন্দরে সেই অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বারবার।
এবার পরিস্থিতি বদলাচ্ছে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রকাশ্যে দিলীপ ঘোষের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে সংগঠন গঠনে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাঁর সভাপতিত্বেই বাংলায় বিজেপি সর্বকালের সেরা ফল করেছিল।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি নতুন করে পুরনো পরীক্ষিত মুখদের কাজে লাগাতে চাইছে। দিলীপ ঘোষকে ফের সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেলে, তা তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির লড়াইকে নতুন ধার দিতে পারে। সূত্রের খবর, অমিত শাহের বৈঠকেই দিলীপকে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ছয় মাস পর দিলীপ ঘোষের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি বৈঠকে যোগ দেওয়া নয়, বরং বঙ্গ বিজেপির ভবিষ্যৎ কৌশলের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
