
চব্বিশের লোকসভা ভোটের আগে ব্রিগেডের সেই বিশাল র্যাম্প আর তাতে অভিষেকের পায়চারি করতে করতে বক্তৃতা দেওয়ার দৃশ্য আজও অনেকের মনে টাটকা। এবার সেই একই কায়দায় ছাব্বিশের বিধানসভা যুদ্ধের দামামা বাজাতে বারুইপুরে অবতীর্ণ হচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বারুইপুরের সাগর সঙ্ঘের মাঠে আয়োজিত এই মেগা জনসভা স্রেফ একটি সভা নয়, বরং শাসক দলের শক্তির মহড়া বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বারুইপুরের সভার প্রধান আকর্ষণই হলো এর মঞ্চসজ্জা। ব্রিগেডের ধাঁচে মাঠের দক্ষিণ দিকে তৈরি হয়েছে মূল মঞ্চ, যেখান থেকে প্রায় ২০০ ফুট লম্বা এবং ১৪০ ফুট চড়াও একটি ক্রস র্যাম্প বেরিয়ে গেছে জনতার দিকে। উদ্দেশ্য স্পষ্ট—বক্তা আর শ্রোতার মাঝখানের দূরত্বটুকু মুছে ফেলা। র্যাম্পে হেঁটে মানুষের একেবারে কাছাকাছি গিয়ে ভাষণ দেবেন অভিষেক। নিরাপত্তার খাতিরে র্যাম্পের দু’ধারে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন থাকলেও, এই বিশেষ নকশা সাধারণ কর্মীদের বাড়তি উন্মাদনা জোগাচ্ছে। দলীয় সূত্রে খবর, শুধু বারুইপুর নয়, আগামী এক মাস অভিষেকের প্রতিটি জনসভাতেই এই ধরনের র্যাম্প দেখা যাবে।
মূল মঞ্চের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের জন্য আলাদা আরও দুটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। একদিকের মঞ্চে থাকবেন ৩১ জন বিধায়ক, অন্য দিকে জেলা পরিষদ সদস্য ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিরা। মাঠের যেকোনো প্রান্ত থেকে যাতে নেতার মুখ স্পষ্ট দেখা যায়, তার জন্য মঞ্চের পেছনে লাগানো হয়েছে ৪০ ফুটের দানবাকৃতি এলইডি স্ক্রিন। এছাড়া গোটা মাঠজুড়েই থাকবে বড় বড় স্ক্রিন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি যাতে সরাসরি মঞ্চের পেছনে পৌঁছাতে পারে, তার জন্য বিশেষ রাস্তা ও জনপ্রতিনিধিদের বসার আলাদা ঘরের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
জানুয়ারির শুরু থেকেই নিজের সংসদীয় কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবার তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাজুড়ে একের পর এক সভা শুরু করেছেন অভিষেক। বারুইপুরের এই সভা থেকে তিনি ঠিক কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে নবান্ন থেকে শুরু করে আলিমুদ্দিন। দুপুর ২টো থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সভায় রেকর্ড জনসমাগমের আশা করছে জেলা নেতৃত্ব। বুথ স্তর থেকে কর্মীদের উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা ভোটে রাজ্যে তৃণমূলের অভাবনীয় ফলের পর অভিষেক এখন দলের অবিসংবাদিত সেনাপতি। বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ের রূপরেখা তিনি বারুইপুরের এই মাঠ থেকেই স্পষ্ট করে দেবেন। র্যাম্পে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই চেনা ভঙ্গিতে বিরোধীদের দিকে কোন তোপ দাগেন, আর দলীয় কর্মীদের জন্য কোন লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন, এখন সেটাই দেখার।।
