
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতার আরও এক মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এল। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে গুরুতর আহত হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
খোকন চন্দ্র দাস বাংলাদেশের একটি গ্রামের বাসিন্দা, যা রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি ছোট ওষুধের দোকান চালানোর পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের দাবি, বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় একদল দুষ্কৃতী তাঁর উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়, এরপর তাঁকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভয়াবহ অবস্থার মধ্যেও খোকন দাস প্রাণ বাঁচাতে কাছের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। এতে তাঁর মাথা ও মুখে লেগে থাকা আগুন অনেকটাই নিভে যায়। হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে ঢাকার একটি বড় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। প্রায় দু’দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান।
খোকন দাসের স্ত্রী সীমা দাস হাসপাতালের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তাঁদের কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতা ছিল না। কেন এমন নির্মম হামলা করা হল, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীরা মুসলিম এবং খোকন দাস তাঁদের দু’জনকে চিনে ফেলায় তাঁকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলার তালিকায় আরও একটি নাম যোগ করল। রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার আবহে মানবাধিকার সংগঠনগুলি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এদিকে ভারতও বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে পরিস্থিতির উপর নজর রাখার কথা বলেছে। বাংলাদেশ সরকার অবশ্য দাবি করেছে, তারা সমস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
