
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে জিএসটি সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজ্যের জিএসটি আয় (আইজিএসটি অংশসহ) আগের বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় ৩৫ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের ডিসেম্বরে জিএসটি থেকে পশ্চিমবঙ্গের মোট আয় দাঁড়িয়েছিল ৩,৫২৪ কোটি টাকা (পোস্ট-সেটেলমেন্ট হিসাব অনুযায়ী)। এই প্রবৃদ্ধি রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ও বাণিজ্যিক কার্যকলাপের গতি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্যের নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, রাজ্যের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভোক্তা ব্যয়ের সুস্থতাই জিএসটি আয় বৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি। পাশাপাশি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘কন্যাশ্রী’-র মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ফলে সাধারণ মানুষের হাতে নগদ অর্থ পৌঁছেছে, যা বাজারে চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জিএসটি সংগ্রহে।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে পশ্চিমবঙ্গে জিএসটি আয় প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যেখানে প্রতিবেশী একাধিক রাজ্যে মিশ্র ছবি ধরা পড়ে। ঝাড়খণ্ডে মাসিক জিএসটি সংগ্রহে ৩ শতাংশ হ্রাস হলেও, সামগ্রিক পোস্ট-সেটেলমেন্ট এসজিএসটি-তে ৯ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে। ওড়িশায় মাসিক সংগ্রহ সামান্য বাড়লেও, মোট পোস্ট-সেটেলমেন্ট আয়ে ৯ শতাংশ পতন হয়েছে। তবে ত্রিপুরা এই সময়ে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে সর্বোচ্চ অগ্রগতি দেখিয়েছে।
এদিকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কিছু পণ্যের জিএসটি হার কমানো এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যে ১৮ শতাংশ হার চালু করার ফলে কর কাঠামো আরও সরল হয়েছে। এর প্রভাবও বাজারে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে জিএসটি সংগ্রহ ৮.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের পারফরম্যান্স নজরকাড়া হলেও, অন্যান্য রাজ্যে জিএসটি রাজস্বে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
