
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের অবসান ঘটল। প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর, প্রায় ৪১ বছর পরে দলের শীর্ষপদে পরিবর্তন আসতে চলেছে। বিএনপি সূত্র ও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ভাবে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে পারেন।
১৯৮৪ সালের ১০ মে বিএনপির চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন খালেদা জিয়া। তার আগে ১৯৮১ সালে সেনা অভ্যুত্থানে নিহত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেন। স্বামীর মৃত্যুর পরে ধীরে ধীরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন খালেদা। ১৯৮২ সালে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ, ১৯৮৩ সালে জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে দলের শীর্ষপদ এই পথ ধরেই তিনি উঠে আসেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে।
গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে প্রয়াত হন খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুর ফলে বিএনপির শীর্ষপদে শূন্যতা তৈরি হয়। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে চলেছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই দলের নীতি নির্ধারণ ও সাংগঠনিক দায়িত্বে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
এদিকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। একই দিনে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মনোনয়ন যাচাই, আপিল এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এই আবহে তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়া দলের নির্বাচনী কৌশল ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্বের পরে তারেক রহমানের হাতে দলের ভার গেলে, বিএনপির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হবে এমনটাই মত পর্যবেক্ষকদের।
