
ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা আরও এক ধাপ এগোতে চলেছে। টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্কে সংযুক্ত হতে চলেছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি শক্তিশালী ১৩৫০ হর্সপাওয়ার ইঞ্জিন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই ইঞ্জিন আপগ্রেডের জন্য ইতিমধ্যেই সবুজ সংকেত দিয়েছে। এর ফলে হিমালয়ের মতো উঁচু ও দুর্গম পার্বত্য এলাকায় ট্যাঙ্ক মোতায়েন ও পরিচালনা অনেক বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে ভারতীয় সেনার টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্কে ব্যবহৃত হয় ১০০০ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন। সমতল এলাকায় এই ইঞ্জিন যথেষ্ট কার্যকর হলেও লাদাখ, সিকিম বা অরুণাচলের মতো উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে ইঞ্জিনের ক্ষমতা কমে যায়। ফলে ভারী ৪৬ টনের ট্যাঙ্ককে দ্রুত গতিতে চালানো বা প্রয়োজনে দ্রুত অবস্থান বদল করা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন ইঞ্জিন সেই সমস্যারই সমাধান করতে চলেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পে প্রোটোটাইপ তৈরির খরচের প্রায় ৭০ শতাংশ বহন করবে সরকার। পাশাপাশি, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি সংস্থাকে সর্বোচ্চ ২৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। শর্ত একটাই নতুন ইঞ্জিনের অন্তত ৫০ শতাংশ যন্ত্রাংশ তৈরি করতে হবে ভারতের মধ্যেই। এতে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।
নতুন ১৩৫০ হর্সপাওয়ার ইঞ্জিন যুক্ত হলে ভীষ্ম ট্যাঙ্কের গতি ও ত্বরণ বহুগুণ বাড়বে। যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত পজিশন বদলানো, শত্রুর আক্রমণের জবাবে তৎক্ষণাৎ পাল্টা আঘাত করা কিংবা থর মরুভূমির মতো বিশাল এলাকায় অভিযান চালানো আরও সহজ হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে সেনাবাহিনীর ‘রিঅ্যাকশন টাইম’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
শক্তিশালী ইঞ্জিনের মাধ্যমে টি-৯০ ভীষ্ম শুধু পাহাড়ে আরও সাবলীলভাবে চলবে না, উত্তর সীমান্তে ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিও পাবে নতুন গতি।
