
সন্দেশখালিতে ফের উত্তেজনা। পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার এই এলাকায়। শুক্রবার গভীর রাতে অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে আক্রান্ত হন এক পুলিশ আধিকারিক-সহ মোট চার জন। ঘটনার জেরে ন’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার বাসিন্দা মুসা মোল্লার বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছিল। ওই জমি নিয়ে আদালতের নির্দেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, শুক্রবার রাতে সেই জমিতে পাঁচিল তোলার কাজ শুরু করেন মুসা। বিষয়টি জানাজানি হতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মুসাকে থানায় যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
সেই সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, মুসা ফোন করে তাঁর অনুগামীদের ডেকে নেন। মুহূর্তের মধ্যেই পুলিশের উপর হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি। ইট-পাটকেল ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। হামলায় আহত হন এক পুলিশ আধিকারিক-সহ চার জন। তাঁদের দ্রুত মিনাখাঁ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে সকলেই চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর রাতেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু হয় ধরপাকড়। পুলিশের দাবি, এই হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে ন’জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সন্দেশখালি এলাকায় এর আগেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি ইডি আধিকারিকরা শাহজাহান শেখের বাড়িতে গেলে তাঁদের উপর হামলা হয়। সে দিন আহত হন ইডির তিন আধিকারিক। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা এলাকাবাসীর মনে।
ফের পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এলাকায় শান্তি ফেরাতে পুলিশি নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে।
