
পশ্চিমবঙ্গে বন্যাত্রাণ ক্ষতিপূরণ বিতরণে প্রায় ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি। মালদা জেলাকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে নিশানা করেছে বিরোধী দল। বিজেপির দাবি, ক্যাগ (কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল) রিপোর্টে বন্যাত্রাণে একাধিক গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের জাতীয় মুখপাত্র কে কে শর্মা জানান, বন্যাদুর্গতদের জন্য বরাদ্দ অর্থ সঠিকভাবে বণ্টন হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলার পর আদালতের নির্দেশে ক্যাগ তদন্ত শুরু করে এবং সেখান থেকেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে বলে দাবি বিজেপির।
বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী, মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকে একই বাড়ি ও একই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নামে একাধিকবার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। একটি ক্ষেত্রে নাকি একটি বাড়ির জন্য ৪২ বার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। মোট প্রায় ৬,৯৮৫ জনকে ঘরবাড়ির ক্ষতির জন্য টাকা দেওয়ার নামে এই অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি।
এছাড়াও ক্যাগ রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, যেখানে সরকারি রিপোর্টে বলা হয়েছিল বন্যায় কোনও পাকা বাড়ির ক্ষতি হয়নি, সেখানে ১,৬০৯টি পাকা বাড়ির জন্য প্রায় ৭.৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মচারী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের মধ্যেও বহুজন বন্যাদুর্গত বিপিএল তালিকাভুক্তদের ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে বিজেপি জানায়, প্রায় ৭ কোটি টাকা এমন ব্যক্তিদের দেওয়া হয়েছে যারা আদৌ বন্যাত্রাণের জন্য আবেদনই করেননি। এই পুরো ঘটনাকে “লুটপাট ও অমানবিক দুর্নীতি” বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি।
বিষয়টি বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারাধীন। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
