
গুজরাটের প্রভাস পট্টনে অবস্থিত সোমনাথ মন্দির শুধু একটি তীর্থস্থান নয়, ভারতের সভ্যতা ও আত্মবিশ্বাসের এক অমলিন প্রতীক। ১০২৬ সালে গজনীর মাহমুদের প্রথম আক্রমণের এক হাজার বছর পূর্ণ হচ্ছে ২০২৬ সালে। সেই উপলক্ষে সোমনাথের ইতিহাস, ধ্বংস ও পুনরুত্থানের কাহিনি নতুন করে উঠে আসছে আলোচনায়।
ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ১০২৬ সালের জানুয়ারিতে সোমনাথ মন্দিরে ভয়াবহ আক্রমণ চালানো হয়। মন্দির ধ্বংসের পাশাপাশি শহরের মানুষের উপর চলে নির্মম অত্যাচার। তবে সেই ধ্বংসই শেষ কথা হয়ে থাকেনি। বারবার আক্রমণের পরেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতি এই তীর্থস্থানকে পুনর্গঠন করেছে, নতুন করে প্রাণ ফিরিয়েছে।
সোমনাথ দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে প্রথম হিসেবে বিশেষ মর্যাদা বহন করে। ‘সৌরাষ্ট্রে সোমনাথং চ…’ এই মন্ত্রে শুধু ধর্মীয় গুরুত্ব নয়, সভ্যতাগত ধারাবাহিকতার কথাও বলা হয়েছে। সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত এই মন্দির একসময় বাণিজ্য ও নৌযাত্রার কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
স্বাধীনতার পর সোমনাথ পুনর্নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। তাঁর উদ্যোগে এবং কে এম মুন্সির সক্রিয় সহযোগিতায় ১৯৫১ সালের ১১ মে পুনর্নির্মিত মন্দির ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ। এই পুনর্নির্মাণ আজ স্বাধীন ভারতের আত্মমর্যাদার এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
স্বামী বিবেকানন্দ থেকে অহল্যাবাই হোলকার, ইতিহাসের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের স্মৃতিবিজড়িত সোমনাথ আজও একইভাবে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। হাজার বছরের আঘাত সত্ত্বেও যে বিশ্বাস বারবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, সেই অটুট চেতনাই সোমনাথকে করে তুলেছে ‘শ্রাইন ইটার্নাল’ এক চিরন্তন আশার প্রতীক।
