
‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’— বাঙালির এই অতি পরিচিত প্রবাদকে সার্থক করতে আবারও সেজে উঠেছে সাগরদ্বীপ। ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে বিশ্বখ্যাত গঙ্গাসাগর মেলা। পৌষ সংক্রান্তি ও মকর সংক্রান্তির এই মহামিলন মেলা চলবে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলার পাশাপাশি ভিন রাজ্য থেকেও লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ঢল নামবে বলে আশা করছে প্রশাসন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কপিল মুনির আশ্রমকে কেন্দ্র করেই এই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।
পুণ্যস্নানের জন্য এ বছর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় নির্ধারিত হয়েছে ১৪ জানুয়ারি সকাল ৬টা ৫৮ মিনিট থেকে ১৫ জানুয়ারি সকাল ৬টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত। এর মধ্যে মকর সংক্রান্তির ক্ষণ শুরু হবে ১৪ জানুয়ারি দুপুর ২টা ৫৮ মিনিটে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাগরদ্বীপে গিয়ে মেলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন। মেলা পরিদর্শনের পাশাপাশি তিনি মুড়িগঙ্গার উপর চার লেনের সেতুর শিলান্যাসও করেছেন, যা ভবিষ্যতে পুণ্যার্থীদের যাতায়াত আরও সহজ করে তুলবে।
পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে পূর্ব রেল এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে। ৯ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত শিয়ালদা দক্ষিণ শাখায় ১২৬টি অতিরিক্ত স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে। এর মধ্যে শিয়ালদা-নামখানা ও শিয়ালদা-কাকদ্বীপ রুটে ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন থাকবে। ভিড় সামলাতে শিয়ালদা ও কাকদ্বীপ স্টেশনে বিশেষ প্ল্যাটফর্ম নির্দিষ্ট করা হয়েছে। যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ‘ওয়ান-ওয়ে ফ্লো সিস্টেম’ বা একমুখী চলাচল ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। শিয়ালদা থেকে নামখানা যাওয়ার জন্য রাত ১২টা ০১ মিনিট থেকে শুরু করে দিনের বিভিন্ন সময়ে স্পেশাল ট্রেন মিলবে। একইভাবে নামখানা ও কাকদ্বীপ থেকেও শিয়ালদা ও কলকাতা স্টেশনের দিকে ফেরার জন্য পর্যাপ্ত ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রেলপথের পাশাপাশি সড়ক ও জলপথেও কড়া নজরদারি ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকছে। প্রায় ২,৫০০টি বাস, ৩২টি ভেসেল এবং ১০০টি লঞ্চ পুণ্যার্থীদের পারাপারের জন্য প্রস্তুত। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা মেলা প্রাঙ্গণকে। প্রায় ১২ হাজার পুলিশ কর্মী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পাশাপাশি জিপিএস ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে। স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনো খামতি না রাখতে সংলগ্ন হাসপাতালগুলোতে ৫০০টির বেশি শয্যা এবং আইসিইউ-র ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্সও। প্রশাসনের অনুমান, এ বছর পুণ্যার্থীর সংখ্যা ৪০ লক্ষ ছাড়িয়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে ভক্তি ও শৃঙ্খলার মেলবন্ধনে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টির অপেক্ষায় সাগর তট।।
