
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নৃশংস হামলার ঘটনা ফের উদ্বেগ বাড়াল। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের দুই প্রান্তে দুই হিন্দু ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলি ঘিরে স্থানীয় স্তরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে নরসিংদী জেলায়। সেখানে এক হিন্দু দোকান মালিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করেই এই হামলা চালানো হয় বলে প্রাথমিক অনুমান। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে যশোরে। সেখানে এক হিন্দু ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হামলাকারীরা প্রথমে গুলি চালায়, পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক গুলির খোল উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন বলে খবর।
পরপর দুই হিন্দু হত্যার ঘটনায় সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যে গভীর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হামলা হলেও দোষীরা ধরা পড়ছে না, ফলে অপরাধীরা আরও সাহস পাচ্ছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সংখ্যালঘুদের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
মাত্র ২৪ ঘণ্টায় দুই হিন্দু হত্যার এই ঘটনা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে এনে দাঁড় করিয়েছে।
