
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ফের উত্তেজনা। প্রেসিডেন্ট ভবন মিরাফ্লোরেস প্যালেসের আশপাশে ড্রোন উড়তে দেখা যাওয়ার পাশাপাশি শোনা গিয়েছে গুলির আওয়াজ। ঘটনায় নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও ভেনেজুয়েলা প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এই ঘটনা ঘটে এমন এক সময়, যখন সদ্য অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ। তাঁর শপথ গ্রহণের কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ভবনের উপর দিয়ে একটি ড্রোন উড়ে যেতে দেখা যায়। নিরাপত্তারক্ষীরা সঙ্গে সঙ্গে সেই ড্রোন লক্ষ্য করে গুলি চালান। তবে ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছিল, কে বা কারা পাঠিয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির ফলেই গুলি চলতে পারে। কিন্তু ড্রোনের উপস্থিতি এই ব্যাখ্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী আটক করে। বর্তমানে তিনি মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন। নিউ ইয়র্কের ফেডারাল আদালতে তাঁকে পেশ করা হলে মাদুরো নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও মাদক উৎপাদনে মদত দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ১৭ মার্চ ফের তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।
মাদুরোর গ্রেফতারের পর থেকেই ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। অনেকের আশঙ্কা, দেশটি ধীরে ধীরে গৃহযুদ্ধের পথে এগোচ্ছে কি না। ড্রোন ও গুলির এই সাম্প্রতিক ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই আরও উসকে দিল। এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।
