
জাপানের শিমানে প্রিফেকচারে মঙ্গলবার সকালে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল। কম্পনের তীব্রতায় প্রথমে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও পরে জাপান আবহাওয়া দফতর (JMA) জানায়, ভূমিকম্পটির মাত্রা ৪.৫। যদিও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS তাদের রিয়েল-টাইম ডেটায় এই কম্পনের মাত্রা ৫.৮ বলে উল্লেখ করেছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল শিমানে প্রিফেকচারের পূর্বাংশে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, জাপানের ভূমিকম্প-তীব্রতা স্কেলে এই কম্পন ‘আপার-৫’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ধাক্কা বলে ধরা হয়। তবে স্বস্তির বিষয়, এই ভূমিকম্পের ফলে এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি।
তবুও এই কম্পন জাপানের মানুষের মনে ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির স্মৃতি উস্কে দিয়েছে। সেই বছর ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্পের জেরে সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা আজও দেশবাসীর মনে দগদগে ক্ষত হয়ে রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার পর জাপান সরকার ভূমিকম্প মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপান ‘রিং অব ফায়ার’-এর অংশ হওয়ায় এখানে প্রতিবছর প্রায় দেড় হাজার ছোট-বড় ভূমিকম্প হয়ে থাকে। শিমানের সাম্প্রতিক কম্পন বড় বিপর্যয় ডেকে না আনলেও ভবিষ্যতে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে নানকাই ট্রফ অঞ্চলে সম্ভাব্য ‘মেগাকোয়েক’-এর আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের চিন্তায় রেখেছে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভূমিকম্পপ্রবণ এই দেশে প্রস্তুতিই যে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা, তা ফের একবার মনে করিয়ে দিল শিমানের এই কম্পন।
