
শিক্ষকরাই সমাজের দর্পণ এবং পড়ুয়াদের আদর্শ। বর্তমানের সোশ্যাল মিডিয়া এবং স্মার্টফোনের যুগে শিশুরা যাতে স্কুল থেকে সুস্থ পরিবেশ ও সঠিক শিক্ষা পায়, তা নিশ্চিত করতেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এই নয়া পদক্ষেপ নিয়েছে। পর্ষদের ডেপুটি সেক্রেটারি (অ্যাকাডেমিক) ঋতব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সই করা এই নির্দেশিকায় শিক্ষক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ—উভয়ের জন্যই দায়িত্ব বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সময়ানুবর্তিতায় বাড়তি কড়াকড়ি
নির্দেশিকায় শিক্ষকদের স্কুলে আসা এবং বেরোনোর সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে:
- প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের মধ্যে স্কুলে উপস্থিত হয়ে প্রার্থনাসভায় যোগ দিতেই হবে।
- নির্ধারিত সময়ের পরে এলে তা ‘লেট’ বা বিলম্ব হিসেবে গণ্য হবে।
- সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের পরে স্কুলে পৌঁছলে সেই শিক্ষককে ওই দিনের জন্য অনুপস্থিত হিসেবে ধরা হবে।
- ছুটির আগে অর্থাৎ বিকেল ৪টে ৩০ মিনিটের আগে স্কুল চত্বর ত্যাগ করা যাবে না।
পঠনপাঠনের পরিবেশ বজায় রাখতে ক্লাসরুমের ভেতরে শিক্ষকদের স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পর্ষদের মতে, ক্লাসে ফোনের ব্যবহার পড়াশোনার মনোনিবেশে ব্যাঘাত ঘটায়। এছাড়া, ব্যক্তিগত লাভের আশায় কোনো শিক্ষক বা শিক্ষিকা প্রাইভেট টিউশন করতে পারবেন না—এই বিষয়টিও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্কুল চত্বরকে পুরোপুরি তামাকমুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পড়ুয়াদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরির মূল দায়িত্ব নিতে হবে প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো যাতে পড়ুয়াদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়, তার জন্য শিক্ষকদের ‘নোডাল টিচার’ হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এই নির্দেশিকা কেবল শিক্ষকদের জন্য নয়, স্কুল কর্তৃপক্ষের ওপরও সমানভাবে কার্যকর হবে। স্কুল চত্বরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সময়ের হিসাব রাখা এবং নিয়মগুলো যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব থাকবে পরিচালনা সমিতির ওপর। পর্ষদের এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হলো একটি শিক্ষার্থী-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। স্মার্টফোনের আসক্তি থেকে শিশুদের দূরে রাখা এবং শিক্ষকদের সঠিক সময়ে স্কুলে উপস্থিত নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলোর প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়েছে।।
