
কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী তথা প্রবীণ নেত্রী সোনিয়া গান্ধী আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় তাঁকে দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দলের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল এবং উদ্বেগের কোনো বড় কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোনিয়া গান্ধীর অসুস্থতা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বুলেটিন প্রকাশ করেনি। তবে ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, গত কয়েক দিন ধরে তিনি তীব্র কাশির সমস্যায় ভুগছিলেন। মূলত দিল্লির ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণের কারণেই তাঁর শ্বাসকষ্ট এবং শারীরিক অস্বস্তি বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এবং নিয়মিত রুটিন চেকআপের জন্যই তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের চেস্ট স্পেশালিস্ট বা বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর ফুসফুসের সংক্রমণ বা অন্য কোনো জটিলতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে খুব দ্রুতই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
গত কয়েক বছরে সোনিয়া গান্ধীর শারীরিক অবস্থার একাধিকবার অবনতি হয়েছে। উল্লেখ্য, তিনি দুবার কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছিলেন। করোনা থেকে সেরে উঠলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর শরীরে নানাবিধ ‘পোস্ট-কোভিড’ জটিলতা দেখা দেয়। এর আগে গত বছর শিমলা সফরে গিয়েও তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সে সময় তাঁকে তড়িঘড়ি শিমলার ইন্দিরা গান্ধী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল।
গত ডিসেম্বরেই ৭৯ বছরে পা দিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। বয়সজনিত কারণে এবং শারীরিক সীমাবদ্ধতার জন্য তিনি এখন আগের মতো দলীয় সাংগঠনিক কাজে সরাসরি যুক্ত থাকেন না। দলের বড় দায়িত্বগুলো এখন রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে। তবে অসুস্থতা সত্ত্বেও সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয়তা কমেনি। রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে তিনি নিয়মিত অধিবেশনে যোগ দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে নিজের মতামত তুলে ধরেন।
দিল্লির দূষণ বর্তমানে বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোনিয়া গান্ধীর অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর থেকেই কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের আশ্বাস অনুযায়ী, তিনি এখন বিপদমুক্ত।।
