
দিল্লির তুর্কমান গেট ও ফৈজ-ই-ইলাহি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার গভীর রাতে নজিরবিহীন উত্তেজনা ছড়াল। হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানী। বুলডোজার নামিয়ে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হতেই পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে, যাতে অন্তত পাঁচজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাত ১টা নাগাদ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এমসিডি) তুর্কমান গেট এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। প্রায় ৩৯ হাজার বর্গফুট জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ৩২টি জেসিবি বা বুলডোজার মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরে অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মামলার ভিত্তিতে হাইকোর্ট এই জমি খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের বেঁধে দেওয়া তিন মাসের সময়সীমা শেষ হতেই এদিন অভিযানে নামে প্রশাসন। তবে মাঝরাতে বুলডোজারের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযান শুরু হতেই শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন এবং উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যখন বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করে।
উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। দীর্ঘক্ষণ ধরে দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি চলে। হামলায় পাঁচজন পুলিশকর্মী আহত হলেও পুরসভার কোনও কর্মী আঘাত পাননি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে এবং ব্যারিকেড দিয়ে এলাকা ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
পুরসভার এক আধিকারিক জানান, “পাথর বৃষ্টির মধ্যেও উচ্ছেদের মূল কাজ সম্পন্ন করা গেছে। অবশিষ্ট অংশ দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে।” অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২৫ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
এই উচ্ছেদ অভিযান ফের একবার রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনের কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত ১টার সময় হানা দেওয়ায় মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বেশি ছড়িয়েছে। তবে প্রশাসনের দাবি, আদালতের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতেই এই কাজ করা হয়েছিল।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। আদালতের রায় কার্যকর করতে প্রশাসন যতটা তৎপর ছিল, স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ প্রশমনে ততটা প্রস্তুতি ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছেই।।
