
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে সম্প্রতি শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সূত্রপাত হয়েছে তার পূর্ণ করা এসআইআর (Voter Verification) ফর্মে লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি বা তথ্যগত ভুল শনাক্ত হওয়ায়। কমিশন সূত্রের খবর, অমর্ত্য সেনের মায়ের সঙ্গে বয়সের পার্থক্য ১৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে যা লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বীরভূমের রামপুরহাটে মঙ্গলবারের সভায় তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভারতের জন্য নোবেল জয়ী, দেশকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করা অমর্ত্য সেনকেও এসআইআর-এর নোটিস পাঠানো হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ধরনের লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ ভোটারকে সন্দেহভাজন তালিকায় রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে, অমর্ত্য সেনের প্রতিচী বাড়িতে বিএলও শ্যামাব্রত মুখোপাধ্যায় এসআইআর নোটিস দেন। যদিও সে সময়ে তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। শুধু অমর্ত্য সেনই নয়, ক্রিকেটার মহম্মদ সামি এবং বাংলা সিনেমার উজ্জ্বল নক্ষত্র দেবকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। দেবকসহ তার পরিবারের তিনজন সদস্যও নোটিস পেয়েছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, এই লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই CEC জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সাংবাদিক বৈঠকেও বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এর মধ্যে ভোট চুরির সম্ভাব্য রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে।
সাধারণভাবে কমিশন এ ধরনের নোটিস পাঠায় যাতে ভোটারের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা যায় এবং কোনও ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে তা সমাধান করা যায়। তবে এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্বকে নোটিস দেওয়াকে অনেকেই আশ্চর্যজনক ও বিতর্কিত বলছেন।
এই ঘটনা নতুন করে ভোটার তালিকা যাচাই এবং রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
