
কয়লাপাচার মামলার সূত্র ধরে ভোট কুশলী সংস্থা আই-প্যাকের বিরুদ্ধে বড়সড় তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের কলকাতার লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভের অফিসে তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। বেলা ৩টে নাগাদ প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে ইডি বেরিয়ে গেলেও, প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত সেক্টর ফাইভের অফিসে তল্লাশি চলছিল।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি থেকে কোনও নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। তবে একটি পঞ্চনামা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রতীক জৈনের পরিবারের সদস্যদের সই নেওয়া হয়েছে। সেই নথিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি ইডির একাংশ সূত্রের। অন্যদিকে, সেক্টর ফাইভের অফিসে কী কী নথি মিলেছে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানায়নি সংস্থা।
এই তল্লাশি অভিযান ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রয়োজনীয় নথি নিতে এসেছিল ইডি এবং সেগুলি তিনি সুরক্ষার স্বার্থে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। পাল্টা ইডির অভিযোগ, তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথি ‘ছিনিয়ে’ নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগে ইডি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
ইডি সূত্রে আরও দাবি, কয়লাপাচার মামলায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ী অনুপ মাঝির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান। সংস্থার বক্তব্য, ওই কেলেঙ্কারির টাকা ‘হাওয়াপথে’ আই-প্যাকে ঢুকেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই তল্লাশি। একই সঙ্গে কলকাতার ছ’টি ও দিল্লির চারটি জায়গায় সমান্তরাল অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি।
