
কলকাতায় ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির হানাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোমবার ভোরে ইডি তল্লাশি শুরু করতেই পরিস্থিতি দ্রুত রাজনৈতিক রঙ নেয়। খবর ছড়াতেই প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের কমিশনার, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই উপস্থিতি ঘিরেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ কমিশনার সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। শুভেন্দুর দাবি, এটি শুধু অনৈতিক নয়, সাংবিধানিক সীমারও লঙ্ঘন। তিনি বলেন, “এর আগেও রাজীব কুমারের সময় একই ছবি দেখা গিয়েছিল। বারবার এমন হস্তক্ষেপ হলে তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।” মুখ্যমন্ত্রী ও সিপি, দু’জনের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডি অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কটাক্ষ করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করেন। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে তৃণমূলের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। “যদি আমি বিজেপির দফতরে তল্লাশি চালাই, তাহলে কী হবে?” এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের দাবি, ইডি অভিযান আসলে ভোটের আগে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা। বিজেপির বক্তব্য, আইন আইনের পথেই চলবে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থা তার কাজ করছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে লাউডন স্ট্রিটে সিবিআই অভিযানের সময়ও একইভাবে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ছয় বছর পর ফের সেই ছবির পুনরাবৃত্তি, এবার আই-প্যাক ইস্যুতে। ফলে ইডি হানা শুধুই তদন্তের বিষয় নয়, রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
